কওমি মাদ্রাসায় রাজনীতি নিষিদ্ধ কওমি মাদ্রাসায় রাজনীতি নিষিদ্ধ – Sabuj Bangla Tv
  1. shahinit.mail@gmail.com : admin :
  2. khandakarshahin@gmail.com : সবুজ বাংলা টিভি : সবুজ বাংলা টিভি
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ-
বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন টিভি চ্যানেল সবুজবাংলা টিভি এর জেলা/উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

কওমি মাদ্রাসায় রাজনীতি নিষিদ্ধ

সবুজ বাংলা টিভি
  • প্রকাশ কাল | সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৩৪ পাঠক

সব ধরনের রাজনীতি থেকে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের ‘মুক্ত’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী বোর্ড আল হাইআতুল উলয়া লিল জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। হেফাজতে ইসলামকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদ্রাসায় বোর্ডের স্থায়ী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সরকার স্বীকৃত কওমি মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রক আল হাইআতুল উলয়া লিল জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে ছয়টি বোর্ড রয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন থেকে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ ও নেবে শুধু আল-হাইআতুল উলয়া।

আল-হাইআতুল উলয়া’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষক প্রচলিত সর্বপ্রকার রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবে মর্মে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সভায় কওমি মাদ্রাসার বিষয়ে অন্য কারও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। এই বোর্ডের অধীন এক বা একাধিক বোর্ড কিংবা কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি আল-হাইআতুল উলয়ার সিদ্ধান্ত ছাড়া পৃথকভাবে কওমি মাদ্রাসার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নিতে পারবে না।“

মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরোধিতায় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ কর্মসূচি ও হরতালকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতার সৃষ্টি হয়। সে সময় পুলিশের সাথে সংঘাতে প্রাণহানিও হয়।

বিক্ষোভ–সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় হেফাজতের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে অন্তত ৭৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৬৯ হাজারের বেশি জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রতিদিনই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন।

এর মধ্যে রবিবার পর্যন্ত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ১৯ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতৃস্থানীয় পদে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে রোববার বোর্ডগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল হাইআতুল উলয়া লিল জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ সভা করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত জানাল।

বোর্ডের অফিস সম্পাদক অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “চলমান অস্থিরতা থেকে এই শিক্ষাব্যবস্থার সুরক্ষা এবং আলেমদের মান বজায় রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় দ্বীনি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।”

আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাদ্রাসার হিফজ ও মক্তব বিভাগ খুলে দেওয়ার জন্য এবং রমজানের পর মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করারও সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার হওয়া কওমি মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক, আলেম-ওলামা এবং মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর কথাও বলা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

সেখানে বলা হয়, আল-হাইআতুল উলয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকারকে জানাতে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করবে। মুফতি রুহুল আমীন, মুফতি মোহাম্মদ আলী ও মুফতি জসীমুদ্দীন থাকবেন এই প্রতিনিধি দলে।

এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কিত সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তত্ত্বাবধানের জন্য ১৫ সদস্যের একটি ‘বাস্তবায়ন সাব-কমিটি’ গঠন করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, নূরুল ইসলাম জিহাদী, সাজিদুর রহমান, আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, ছফিউল্লাহ, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুছলেহুদ্দীন রাজু, উবায়দুর রহমান মাহবুব, মহাসচিব মাহফুজুল হক, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গার সভাপতি মুফতি রুহুল আমীন ও মহাসচিব শামসুল হক, আযাদ দীনী এদারায়ে তা‘লীম এর মহাসচিব আব্দুল বছীর; তানজীমুল মাদারিসের সভাপতি মুফতি আরশাদ রাহমানী, মহাসচিব ইউনুস এবং মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলী এবং আল-হাইআতুল উলয়ার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মাদ ইসমাইল।

এদিকে, রবিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১১ টার দিকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন জুনায়েদ বাবুনগরী। ওই সময় তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

হেফাজতে ইসলামের কমিটি বিলুপ্তির সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে সদ্যসাবেক আমির জুনায়েদ বাবুনগরীকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আহবায়ক কমিটির অন্য চারজন সদস্য হলেন মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, নুরুল ইসলাম জিহাদী, সালাউদ্দিন নানুপুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরী।

রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে প্রথমে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তিন সদস্যের নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ভোর চারটার দিকে জানানো হয়, সালাউদ্দিন নানুপুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরীকেও আহবায়ক কমিটির সদস্য করা হয়েছে। মহিবুল্লাহ বাবুনগরী আগের কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আর নুরুল ইসলাম মহাসচিব ছিলেন।

আহবায়ক কমিটি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করে হেফাজত নেতা আহসান উল্লাহ বলেন, সোমবার (২৬ এপ্রিল) আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে আরও কয়েকজনের নাম ঘোষণা করা হবে। পরবর্তীতে আহবায়ক কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে সারাদেশে নতুন কমিটি গঠন করবে।

বিলুপ্ত হওয়া ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গত বছরের ১৫ নভেম্বর জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির করে ঘোষণা করা হয়। সেখানে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীর অনুসারী কাউকে রাখা হয়নি। এরপর থেকে তারা এই কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে আসছেন।

নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর হেফাজত ইসলামের আগের কমিটির যুগ্ম মহাসচিব (আহমদ শফী পন্থী) মঈনুদ্দীন রুহী বলেন, শিগগিরই তারা আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করবেন। সেখানে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হবে। আর বাবুনগরীকে আহবায়ক করে নতুন কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত জানাবেন। এটি কমিটি হয়নি।

আমাদের সংবাদটি শেয়ার করুন..

এ পাতার আরও খবর

Sabuj Bangla Tv © All rights reserved- 2011| Developed By

Theme Customized BY WooHostBD