জীবন-জীবিকার বাজেট আসছে আজ জীবন-জীবিকার বাজেট আসছে আজ – Sabuj Bangla Tv
  1. shahinit.mail@gmail.com : admin :
  2. khandakarshahin@gmail.com : সবুজ বাংলা টিভি : সবুজ বাংলা টিভি
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ১২:১৩ অপরাহ্ন

জীবন-জীবিকার বাজেট আসছে আজ

সবুজ বাংলা টিভি
  • প্রকাশ কাল | বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১
  • ৩০ পাঠক

করোনার টালমাটাল সময়ে অনিশ্চিয়তার সামনে চোখ রেখে আরও একটি নতুন অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শেষ হতে চলা অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী জাতিকে অর্থনৈতিক উত্তরণ আর ভবিষ্যতের পথের দিশা দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই পথে এখনও পাহাড় সমান বাধা হয়ে রয়েছে করোনাভাইরাস। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট দিতে গিয়ে তাকে খুঁজতে হচ্ছে একইসঙ্গে জীবন ও জীবিকা বাঁচানোর কৌশল।

কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে গতিশীলতা সৃষ্টির পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলতি জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন তিনি। যা মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর চলতি সংশোধিত বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ৬৪ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্যবারের তুলনায় এবারের বাজেট সরকারের জন্য কিছুটা ভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। অন্য বছরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রাধান্য দিয়ে বেশিরভাগ বাজেট প্রণয়ন করেছে সরকার। কিন্তু করোনা মহামারী আগের সেই হিসাব-নিকাশ অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং অক্সফাম পরিচালিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের মহামারীর আগে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলেও গেল বছর মার্চ-এপ্রিলের লকডাউনের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ৬১ ভাগের বেশি মানুষ তাদের কাজ হারিয়েছেন।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এদের মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ এক মাসের মধ্যে তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পেরেছেন। আর ৮৫ ভাগই দীর্ঘ সময় ধরে কর্মহীন রয়েছেন। এ অবস্থায় বেকারত্ব বরণ করে অনেকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা তাই বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে মানুষের খাদ্য ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ গত বছর করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ নতুন করে দারিদ্র্যে নিপতিত এবং কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাই এসব মানুষের খাদ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হবে সরকারের এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের চার কোটি মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে। অনেকের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব মানুষের রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে পরামর্শ দেন তারা। যারা একেবারেই দরিদ্র তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়-রোজগার বাড়ানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য যাতে আর না বাড়ে সেই প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখতে হবে। সবার মতামতকে বিচার বিশ্লেষণ করে সরকারও এবার সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা  গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আকার আরো বাড়ছে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হতে পারে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া মহামারী কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল রাখা হবে, যা ২০২১-২২ অর্থবছরের বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এরই মধ্যে জানিয়েছেন, ‘মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য বাজেটে জায়গা করে দেব। সরকারের আগামী বাজেট দরিদ্রদের জন্য নিবেদিত থাকবে।’

এদিকে, আগামী জুলাই থেকে দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা ১২ হাজার টাকার পরিবর্তে ২০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন। এ জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ বাড়ছে। নতুন কোনো প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা না এলেও বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্যও থাকছে বেশকিছু সুখবর।

অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় চিকিৎসাসামগ্রী এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টিকাকার্যক্রম শক্তিশালীকরণেরও পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ সবার টিকা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক জীবনযাত্রায় গতি সঞ্চারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও ত্বরান্বিত হবে।

এজন্য বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সরকারের অর্থ বিভাগ। চলতি অর্থবছরে (২০২০-২০২১) বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। সে হিসাবে আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৩ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা। এর বাইরে টিকা কেনার জন্য আরো অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

তবে বাজেট নির্ধারণ কিংবা বিপুল বরাদ্দই মূল কথা নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বাজেটের সফল বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারের অর্থ সহায়তা সাধারণ মানুষের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কারণ গতবছর দারিদ্র্য মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার করে টাকা প্রদানের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সহায়তার তালিকায় ৩ হাজারের মতো সরকারি কর্মচারী, সাত হাজারের মতো পেনশনভোগী এবং প্রায় সাড়ে পাঁচশোরও বেশি মানুষের নাম ছিল যাদের সঞ্চয়পত্র কেনা আছে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে ৮ খাতকে। অগ্রাধিকার বিষয়গুলো হচ্ছে- করোনার মহামারি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চলতি বছরে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন ও স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণ, গৃহহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গৃহনির্মাণ, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে বিনা ও স্বল্পমূল্যে খাদ্য বিতরণ এবং সার্বিক মানবসম্পদ (শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ) উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আমাদের সংবাদটি শেয়ার করুন..

এ পাতার আরও খবর

Categories

Sabuj Bangla Tv © All rights reserved- 2011| Developed By

Theme Customized BY WooHostBD