ঢাকা ১১:১৭ পিএম, শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোজিনার মুক্তি চেয়ে ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ’ দাবি ফখরুলের

সবুজবাংলা টিভি ডটকম-
  • প্রকাশকাল ১২:৩৩:১৬ পিএম, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১ ২৯১ পাঠক
সবুজবাংলা টিভি এর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি অফিস থেকে তথ্য চুরির অভিযোগ এনে দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে হেনস্তা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে রোজিনার বিরুদ্ধে করা অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের মামলা প্রত্যাহার করে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সচিবালয়ের মতো জায়গায় রোজিনা ইসলামের মতো অত্যন্ত হাইপ্রোফাইল সাংবাদিককে ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে, মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এরপর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা এবং সেখান থেকে মিথ্যা মামলা দেয়া- আমরা এর ধিক্কার জানাই।’

এসময় সাংবাদিকদের বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘আমি তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানাচ্ছি, আমি নিন্দা জানাচ্ছি, এবং অবিলম্বে তার (রোজিনা ইসলাম) বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সচিবের পদত্যাগ দাবি করছি।’

এদিকে সরকারি নথি চুরির অভিযোগ এনে অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের মামলায় রোজিনা ইসলামকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশের করা ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে মঙ্গলবার (১৮ মে) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসীমের আদালত রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপরই তাকে পুলিশের গাড়িতে করে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে নেয়া হয়।

আদালত থেকে বের করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে রোজিনা বলতে থাকেন, ‘আমার সাথে অন্যায় হচ্ছে। আমার সাথে অন্যায় করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করায় আমার সাথে অন্যায় করা হচ্ছে।’

পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গতকাল সোমবার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান সাংবাদিক রোজিনা। পরে খবর পাওয়া যায়, সেখানে কর্মকর্তারা একটি কক্ষে ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় তাকে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে সেখান থেকে রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালে তাকে তোলা হয় আদালতে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. শিব্বির আহমেদ উসমানী রোজিনা ইসলামের নামে তথ্য চুরির অভিযোগে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলা এবং আরও কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ এনেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রোজিনার মুক্তি চেয়ে ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ’ দাবি ফখরুলের

প্রকাশকাল ১২:৩৩:১৬ পিএম, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১

সরকারি অফিস থেকে তথ্য চুরির অভিযোগ এনে দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে হেনস্তা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে রোজিনার বিরুদ্ধে করা অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের মামলা প্রত্যাহার করে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সচিবালয়ের মতো জায়গায় রোজিনা ইসলামের মতো অত্যন্ত হাইপ্রোফাইল সাংবাদিককে ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে, মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এরপর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা এবং সেখান থেকে মিথ্যা মামলা দেয়া- আমরা এর ধিক্কার জানাই।’

এসময় সাংবাদিকদের বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘আমি তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানাচ্ছি, আমি নিন্দা জানাচ্ছি, এবং অবিলম্বে তার (রোজিনা ইসলাম) বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সচিবের পদত্যাগ দাবি করছি।’

এদিকে সরকারি নথি চুরির অভিযোগ এনে অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের মামলায় রোজিনা ইসলামকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশের করা ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে মঙ্গলবার (১৮ মে) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসীমের আদালত রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপরই তাকে পুলিশের গাড়িতে করে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে নেয়া হয়।

আদালত থেকে বের করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে রোজিনা বলতে থাকেন, ‘আমার সাথে অন্যায় হচ্ছে। আমার সাথে অন্যায় করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করায় আমার সাথে অন্যায় করা হচ্ছে।’

পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গতকাল সোমবার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান সাংবাদিক রোজিনা। পরে খবর পাওয়া যায়, সেখানে কর্মকর্তারা একটি কক্ষে ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় তাকে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে সেখান থেকে রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালে তাকে তোলা হয় আদালতে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. শিব্বির আহমেদ উসমানী রোজিনা ইসলামের নামে তথ্য চুরির অভিযোগে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলা এবং আরও কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ এনেছে।