ঢাকা ০২:০৫ পিএম, মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

করোনায় মৃতের প্রকৃত সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হতে পারে: ডব্লিউএইচও

সবুজবাংলা টিভি ডটকম-
  • প্রকাশকাল ০২:৪৬:৫১ এএম, শনিবার, ২২ মে ২০২১ ২৪২ পাঠক
সবুজবাংলা টিভি এর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তিদের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কম’ দেখানো হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির ধারণা, এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার দুই থেকে তিন গুণ বেশি হতে পারে। খবর রয়টার্সের

ডব্লিউএইচওর ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান’ বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, ২০২০ সালে কোভিড–১৯ মহামারিতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মোট সংখ্যা সরকারিভাবে ঘোষিত সংখ্যা ১৮ লাখের চেয়ে অন্তত ১২ থেকে ৩০ লাখ বেশি বলে ধারণা তাদের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ‘করোনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের যে পরিসংখ্যান আমরা জানতে পারছি, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে।’

অনেক দেশেই মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করার গ্রহণযোগ্য পদ্ধতির অভাব রয়েছে এবং অনেক ঘটনায় করোনা পরীক্ষার আগেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া লোকজন মারা গেছেন বলে মত ডব্লিউএইচওর।

২০ মে ডব্লিউএইচওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ। সংস্থাটি বলছে, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এই সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপাত্ত ও তথ্য বিশ্লেষণ শাখার সহকারী মহাপরিচালক সামিরা আসমা বলেন, ‘করোনার নতুন ধরনগুলোতে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। এ মহামারিতে মৃতের সংখ্যা সত্যিকার অর্থে দুই থেকে তিন গুণ বেশি হবে।’

সামিরা আসমা আরও বলেন, ‘তাই আমি মনে করি, মৃতের সংখ্যা আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ লাখ বিবেচনা করাটা নিরাপদ হবে।’

সংস্থার তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষক উইলিয়াম সেমবুরি বলেন, করোনায় মারা গেছেন অথচ খবর প্রকাশিত হয়নি ও এই মহামারিতে পরোক্ষভাবে মারা গেছেন; যেমন হাসপাতালে সক্ষমতার ঘাটতি, চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ ও অন্যান্য কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শরণাপন্ন হননি—এমন মানুষের সংখ্যা অনুমিত বর্ধিত পরিসংখ্যানে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এমনকি তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রতিবেদন তৈরির (নথিভুক্তকরণ) ব্যবস্থা রয়েছে, সম্ভবত এমন দেশেও সরকারিভাবে কম মৃতের সংখ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর ধারণা, ২০২০ সালে ইউরোপের দেশগুলোতে করোনায় মৃত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে ১১ থেকে ১২ লাখ বেশি, যা প্রকাশিত সংখ্যা ৬ লাখের দ্বিগুণ।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালে বাড়তি মৃত মানুষের সংখ্যা ১৩ থেকে ১৫ লাখ, যা পূর্বঘোষিত সংখ্যা ৯ লাখের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

করোনায় মৃতের প্রকৃত সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হতে পারে: ডব্লিউএইচও

প্রকাশকাল ০২:৪৬:৫১ এএম, শনিবার, ২২ মে ২০২১

বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তিদের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কম’ দেখানো হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির ধারণা, এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার দুই থেকে তিন গুণ বেশি হতে পারে। খবর রয়টার্সের

ডব্লিউএইচওর ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান’ বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, ২০২০ সালে কোভিড–১৯ মহামারিতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মোট সংখ্যা সরকারিভাবে ঘোষিত সংখ্যা ১৮ লাখের চেয়ে অন্তত ১২ থেকে ৩০ লাখ বেশি বলে ধারণা তাদের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ‘করোনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের যে পরিসংখ্যান আমরা জানতে পারছি, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে।’

অনেক দেশেই মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করার গ্রহণযোগ্য পদ্ধতির অভাব রয়েছে এবং অনেক ঘটনায় করোনা পরীক্ষার আগেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া লোকজন মারা গেছেন বলে মত ডব্লিউএইচওর।

২০ মে ডব্লিউএইচওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ। সংস্থাটি বলছে, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এই সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপাত্ত ও তথ্য বিশ্লেষণ শাখার সহকারী মহাপরিচালক সামিরা আসমা বলেন, ‘করোনার নতুন ধরনগুলোতে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। এ মহামারিতে মৃতের সংখ্যা সত্যিকার অর্থে দুই থেকে তিন গুণ বেশি হবে।’

সামিরা আসমা আরও বলেন, ‘তাই আমি মনে করি, মৃতের সংখ্যা আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ লাখ বিবেচনা করাটা নিরাপদ হবে।’

সংস্থার তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষক উইলিয়াম সেমবুরি বলেন, করোনায় মারা গেছেন অথচ খবর প্রকাশিত হয়নি ও এই মহামারিতে পরোক্ষভাবে মারা গেছেন; যেমন হাসপাতালে সক্ষমতার ঘাটতি, চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ ও অন্যান্য কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শরণাপন্ন হননি—এমন মানুষের সংখ্যা অনুমিত বর্ধিত পরিসংখ্যানে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এমনকি তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রতিবেদন তৈরির (নথিভুক্তকরণ) ব্যবস্থা রয়েছে, সম্ভবত এমন দেশেও সরকারিভাবে কম মৃতের সংখ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর ধারণা, ২০২০ সালে ইউরোপের দেশগুলোতে করোনায় মৃত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে ১১ থেকে ১২ লাখ বেশি, যা প্রকাশিত সংখ্যা ৬ লাখের দ্বিগুণ।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালে বাড়তি মৃত মানুষের সংখ্যা ১৩ থেকে ১৫ লাখ, যা পূর্বঘোষিত সংখ্যা ৯ লাখের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি।