ঢাকা ০৭:৩৭ পিএম, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

করোনা নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা বাড়াল জাপান

সবুজবাংলা টিভি ডটকম-
  • প্রকাশকাল ০৩:৩১:২৪ এএম, শনিবার, ২৯ মে ২০২১ ২৮৮ পাঠক
সবুজবাংলা টিভি এর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

করোনাভাইরাস সংক্রমণের লাগাম টানতে টোকিও, ওসাকা এবং আরও সাতটি জেলায় চলমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছে জাপান। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব জায়গায় আগামী ২০ জুন পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকবে। তিন দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর আগামী ৩১ মে চলমান জরুরি অবস্থা শেষ হওয়া কথা ছিল। কিন্তু চতুর্থ দফায় নতুন করে জরুরি অবস্থা জারি করা হল।

টোকিও এবং ওসাকা ছাড়া জরুরি অবস্থার আওতায় থাকা অন্য সাতটি জেলা হলো হোক্কাইডো, আইচি, হিওগো, ওকাইয়ামা, হিরোশিমা, ফুকুওকা এবং ওকিনাওয়া। জাপানের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকা এসব জায়গায় বসবাস করে।

জরুরি অবস্থার মেয়াদ আবারও বাড়ানোর বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ পরিস্থিতিতে অলিম্পিকের আয়োজন সম্পর্কে দেখা দেওয়া উদ্বেগ সম্পর্কে আমি অবগত। নির্বিঘ্নে অলিম্পিক আয়োজনের জন্য আমাদের সংক্রমণ পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।’

করোনার সংক্রমণে লাগাম টানতে টিকা প্রদানের কর্মসূচি জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সুগা। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের জনগণের জন্য দিনে ১০ লাখ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন তিনি। জাপান সরকার আগামী জুলাইয়ের মধ্যে দেশটির বয়স্ক মানুষদের সবাইকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।

জরুরি অবস্থার মেয়াদ আবারও বাড়ায় টোকিও, ওসাকা ও আরও সাতটি জেলায় রেস্তোরাঁ, পানশালা এবং কারাওকে রাত আটটার পরে বন্ধ থাকবে। পানশালাগুলো মদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকবে। করোনাকালে কার্যক্রম সীমিত থাকায় জাপানের রেস্তোরাঁ ও পানাহার শিল্প ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে। লোকসান পুষিয়ে নিতে সরকার ভর্তুকির ব্যবস্থা করলেও তা অপর্যাপ্ত বলছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চলমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত খুশি করতে পারেনি জাপানের ব্যবসায়ীদেরও। করোনা মহামারির ধাক্কায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি–মার্চ) দেশের অর্থনীতি ৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের অনেকেই বেশ উদ্বিগ্ন।

চলমান জরুরি অবস্থার নেতিবাচক প্রভাব তাদের ভাবাচ্ছে। তবে ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিক শুরুর মুখে ব্যবসায়ীদের আপত্তি সত্ত্বেও জরুরি অবস্থা বাড়ানোর পথেই হেঁটেছে জাপান সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

করোনা নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা বাড়াল জাপান

প্রকাশকাল ০৩:৩১:২৪ এএম, শনিবার, ২৯ মে ২০২১

করোনাভাইরাস সংক্রমণের লাগাম টানতে টোকিও, ওসাকা এবং আরও সাতটি জেলায় চলমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছে জাপান। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব জায়গায় আগামী ২০ জুন পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকবে। তিন দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর আগামী ৩১ মে চলমান জরুরি অবস্থা শেষ হওয়া কথা ছিল। কিন্তু চতুর্থ দফায় নতুন করে জরুরি অবস্থা জারি করা হল।

টোকিও এবং ওসাকা ছাড়া জরুরি অবস্থার আওতায় থাকা অন্য সাতটি জেলা হলো হোক্কাইডো, আইচি, হিওগো, ওকাইয়ামা, হিরোশিমা, ফুকুওকা এবং ওকিনাওয়া। জাপানের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকা এসব জায়গায় বসবাস করে।

জরুরি অবস্থার মেয়াদ আবারও বাড়ানোর বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ পরিস্থিতিতে অলিম্পিকের আয়োজন সম্পর্কে দেখা দেওয়া উদ্বেগ সম্পর্কে আমি অবগত। নির্বিঘ্নে অলিম্পিক আয়োজনের জন্য আমাদের সংক্রমণ পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।’

করোনার সংক্রমণে লাগাম টানতে টিকা প্রদানের কর্মসূচি জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সুগা। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের জনগণের জন্য দিনে ১০ লাখ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন তিনি। জাপান সরকার আগামী জুলাইয়ের মধ্যে দেশটির বয়স্ক মানুষদের সবাইকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।

জরুরি অবস্থার মেয়াদ আবারও বাড়ায় টোকিও, ওসাকা ও আরও সাতটি জেলায় রেস্তোরাঁ, পানশালা এবং কারাওকে রাত আটটার পরে বন্ধ থাকবে। পানশালাগুলো মদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকবে। করোনাকালে কার্যক্রম সীমিত থাকায় জাপানের রেস্তোরাঁ ও পানাহার শিল্প ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে। লোকসান পুষিয়ে নিতে সরকার ভর্তুকির ব্যবস্থা করলেও তা অপর্যাপ্ত বলছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চলমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত খুশি করতে পারেনি জাপানের ব্যবসায়ীদেরও। করোনা মহামারির ধাক্কায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি–মার্চ) দেশের অর্থনীতি ৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের অনেকেই বেশ উদ্বিগ্ন।

চলমান জরুরি অবস্থার নেতিবাচক প্রভাব তাদের ভাবাচ্ছে। তবে ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিক শুরুর মুখে ব্যবসায়ীদের আপত্তি সত্ত্বেও জরুরি অবস্থা বাড়ানোর পথেই হেঁটেছে জাপান সরকার।