ঢাকা ১২:১৩ এএম, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শতকোটি টাকার মামলা: নিউ বসুন্ধরা এমডিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

সবুজবাংলা টিভি ডটকম-
  • প্রকাশকাল ১২:০৩:৪৪ পিএম, বৃহস্পতিবার, ৩ জুন ২০২১ ২৭৭ পাঠক
সবুজবাংলা টিভি এর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১১০ কোটি টাকা পাচারের মামলায় বাগেরহাটের নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল মান্নান তালুকদারের জামিন বাতিল করে তাকে ২ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। সেইসঙ্গে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানের জামিন স্থগিতাদেশও বহাল রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিন আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও আসিফ হোসেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস ও আশরাফ আলী।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ মে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের এমডি আবদুল মান্নান তালুকদার ও চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ১১০ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ১৩৫ টাকা ৫৮ পয়সা অবৈধ সম্পদ অর্জন, অপরাধলব্ধ আয় স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

মামলার এজাহারে বলা হয়, কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। কোম্পানির মোট ১ হাজার শেয়ারের মধ্যে আবদুল মান্নান তালুকদার ৮৫০টি, চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ৫০টি, তার মা সালেহা বেগম ও স্ত্রী জেসমিন নাহার ৫০টি করে ১০০টির মালিক। প্রকৃতপক্ষে নিউ বসুন্ধরার চেয়ারম্যান হিসেবে আনিসুর রহমানের নাম থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন এমডি আবদুল মান্নান তালুকদার।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালে বাগেরহাটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (এমএলএসএস) আবদুল মান্নান তালুকদার স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নামে একটি জমি কেনাবেচার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার পর তিনি গ্রাহকদের প্রতি লাখে মাসে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা করে দেয়ার প্রলোভন দেখান। তিনি বাগেরহাট, খুলনাসহ বেশ কয়েকটি জেলার অন্তত ২০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে কমপক্ষে ২৯৯ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন, যা ব্যাংকিং আইনের পরিপন্থি।

এরপর কয়েক বছরে বাগেরহাটের ১৬টি ব্যাংকের ৩০টি (অ্যাকাউন্ট) হিসাবে ১১০ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ১৩৫ টাকা ৫৮ পয়সা জমা করেন আবদুল মান্নান। অভিযোগ উঠে, গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া বিপুল পরিমান এই অর্থ তিনি ব্যাংক থেকে তুলে পাচার করেছেন।

এরপরই দুদকের করা মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করলে গেল বছরের শেষ দিকে আসামিদের জামিন দেন হাইকোর্ট। জামিন পেয়ে আসামিরা কারামুক্তও হন। এরপর দুদক ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে।

চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল আনিসুর রহমানকে আত্মসমর্পণ করতে বলে আপিল বিভাগ। সে অনুসারে আত্মসমর্পণ করে এখন কারাবন্দি তিনি। অপর আসামি আবদুল মান্নান তালুকদারের জামিন বাতিল করে বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শতকোটি টাকার মামলা: নিউ বসুন্ধরা এমডিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

প্রকাশকাল ১২:০৩:৪৪ পিএম, বৃহস্পতিবার, ৩ জুন ২০২১

১১০ কোটি টাকা পাচারের মামলায় বাগেরহাটের নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল মান্নান তালুকদারের জামিন বাতিল করে তাকে ২ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। সেইসঙ্গে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানের জামিন স্থগিতাদেশও বহাল রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিন আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও আসিফ হোসেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস ও আশরাফ আলী।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ মে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের এমডি আবদুল মান্নান তালুকদার ও চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ১১০ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ১৩৫ টাকা ৫৮ পয়সা অবৈধ সম্পদ অর্জন, অপরাধলব্ধ আয় স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

মামলার এজাহারে বলা হয়, কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। কোম্পানির মোট ১ হাজার শেয়ারের মধ্যে আবদুল মান্নান তালুকদার ৮৫০টি, চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ৫০টি, তার মা সালেহা বেগম ও স্ত্রী জেসমিন নাহার ৫০টি করে ১০০টির মালিক। প্রকৃতপক্ষে নিউ বসুন্ধরার চেয়ারম্যান হিসেবে আনিসুর রহমানের নাম থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন এমডি আবদুল মান্নান তালুকদার।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালে বাগেরহাটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (এমএলএসএস) আবদুল মান্নান তালুকদার স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নামে একটি জমি কেনাবেচার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার পর তিনি গ্রাহকদের প্রতি লাখে মাসে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা করে দেয়ার প্রলোভন দেখান। তিনি বাগেরহাট, খুলনাসহ বেশ কয়েকটি জেলার অন্তত ২০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে কমপক্ষে ২৯৯ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন, যা ব্যাংকিং আইনের পরিপন্থি।

এরপর কয়েক বছরে বাগেরহাটের ১৬টি ব্যাংকের ৩০টি (অ্যাকাউন্ট) হিসাবে ১১০ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ১৩৫ টাকা ৫৮ পয়সা জমা করেন আবদুল মান্নান। অভিযোগ উঠে, গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া বিপুল পরিমান এই অর্থ তিনি ব্যাংক থেকে তুলে পাচার করেছেন।

এরপরই দুদকের করা মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করলে গেল বছরের শেষ দিকে আসামিদের জামিন দেন হাইকোর্ট। জামিন পেয়ে আসামিরা কারামুক্তও হন। এরপর দুদক ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে।

চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল আনিসুর রহমানকে আত্মসমর্পণ করতে বলে আপিল বিভাগ। সে অনুসারে আত্মসমর্পণ করে এখন কারাবন্দি তিনি। অপর আসামি আবদুল মান্নান তালুকদারের জামিন বাতিল করে বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।