ঢাকা ০৮:২০ পিএম, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুসলিমদের ক্ষোভে সরে দাঁড়ালেন হলিউড ছবির প্রযোজক

সবুজবাংলা টিভি ডটকম-
  • প্রকাশকাল ০৩:৩৩:২১ এএম, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১ ৩১০ পাঠক
সবুজবাংলা টিভি এর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চ মসজিদের ওপর জঙ্গি হামলার ওপর নির্মীয়মাণ একটি চলচ্চিত্র নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে ছবিটির প্রযোজক ছবি তৈরির কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

‘দে আর আস’ নামের প্রস্তাবিত চলচ্চিত্রটির মূল ফোকাস ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদের ওপর ২০১৯ সালের সন্ত্রাসী হামলা নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন কীভাবে মোকাবেলা করেছিলেন সেটা নিয়ে।
দেশটির মুসলিম সমাজ যারা এই হামলার শিকার হয়েছিলেন, তারা ছবিটি নিয়ে সমালোচনা করছেন এই বলে যে ছবিটিতে হামলার শিকার মুসলমান সম্প্রদায়কে ফোকাসে রাখা হয়নি। এই ছবির প্লটে তারা গৌণ, মুখ্য হলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিজ আর্ডেন। এতে তাকে একজন ‘শ্বেতাঙ্গ ত্রাতার’ ভূমিকায় সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির প্রযোজক ফিলিপা ক্যাম্পবেল ছবিটিতে তার সংশ্লিষ্টতার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বলেছেন এই ছবি অনেকের মনোকষ্টের কারণ হতে পারে সেটা তিনি আগে বুঝতে পারেননি।
‘আমি সম্প্রতি এই ছবি নিয়ে প্রকাশ করা উদ্বেগের কথা শুনেছি এবং মানুষের মতামতের শক্তি উপলব্ধি করতে পেরেছি,’ বলেছেন মিজ ক্যাম্পবেল।
‘মানুষের মনে ১৫ই মার্চ ২০১৯এর ওই মর্মান্তিক ঘটনার ক্ষত এখনো শুকায়নি। এখনই এই ঘটনা নিয়ে ছবি করার সময় যে আসেনি এ বিষয়ে আমি একমত এবং মানুষের মনে আঘাত লাগতে পারে এমন কোন প্রকল্পের সাথে আমি জড়িত থাকতে চাই না,’ তিনি বলেন।
তবে তিনি এই ছবির কাজ থেকে সরে দাঁড়ালেও, অ্যামেরিকান এই হলিউড ছবি তৈরির পুরো প্রকল্পটি যে বাতিল হয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু নয়।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিজ আর্ডেন বলেন ছবিটি তৈরির জন্য সঠিক সময় এখনো আসেনি এবং ছবিটির ফোকাস নির্বাচন ভুল হয়েছে। ‘আমার ব্যক্তিগত অভিমত হল, ঘটনার পর বেশি তাড়াতাড়ি এই ছবি করা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের মানুষের জন্য এর ক্ষত এখনো শুকায়নি,’।
ওই হামলার সময় মিজ আর্ডেন যে সহমর্মিতা দেখিয়েছিলেন তা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। চলচ্চিত্রের প্রস্তাবিত নামটিও নেয়া হয়েছে হামলার ঘটনার পর তার দেয়া একটি ভাষণ থেকে।
তবে নিউজিল্যান্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ছবিটির মূল চরিত্র হিসাবে মিজ আর্ডেনকে বেছে নেয়ার ব্যাপক সমালোচনা করেছেন।
আয়া আল-উমারির ভাই হুসেইন ওই হামলায় প্রাণ হারান। তিনি বলছেন মিজ আর্ডেনের কাহিনি “এখানে বলার মত কোন গল্প নয়”।
ন্যাশানাল ইসলামিক ইউথ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ বাতিল করার জন্য একটি আবেদনে ইতোমধ্যেই প্রায় ৬০ হাজার মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
তারা বলছেন এই চলচ্চিত্রে ‘হতাহত ও যারা প্রাণে বেঁচে যান তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসাবে সব দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে একজন শ্বেতাঙ্গ নারীর ভূমিকার ওপর’। এই পিটিশিনে আরও বলা হয়েছে এই ছবিটি নিয়ে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে কোনরকম পরামর্শ করা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মুসলিমদের ক্ষোভে সরে দাঁড়ালেন হলিউড ছবির প্রযোজক

প্রকাশকাল ০৩:৩৩:২১ এএম, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১
নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চ মসজিদের ওপর জঙ্গি হামলার ওপর নির্মীয়মাণ একটি চলচ্চিত্র নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে ছবিটির প্রযোজক ছবি তৈরির কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

‘দে আর আস’ নামের প্রস্তাবিত চলচ্চিত্রটির মূল ফোকাস ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদের ওপর ২০১৯ সালের সন্ত্রাসী হামলা নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন কীভাবে মোকাবেলা করেছিলেন সেটা নিয়ে।
দেশটির মুসলিম সমাজ যারা এই হামলার শিকার হয়েছিলেন, তারা ছবিটি নিয়ে সমালোচনা করছেন এই বলে যে ছবিটিতে হামলার শিকার মুসলমান সম্প্রদায়কে ফোকাসে রাখা হয়নি। এই ছবির প্লটে তারা গৌণ, মুখ্য হলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিজ আর্ডেন। এতে তাকে একজন ‘শ্বেতাঙ্গ ত্রাতার’ ভূমিকায় সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির প্রযোজক ফিলিপা ক্যাম্পবেল ছবিটিতে তার সংশ্লিষ্টতার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বলেছেন এই ছবি অনেকের মনোকষ্টের কারণ হতে পারে সেটা তিনি আগে বুঝতে পারেননি।
‘আমি সম্প্রতি এই ছবি নিয়ে প্রকাশ করা উদ্বেগের কথা শুনেছি এবং মানুষের মতামতের শক্তি উপলব্ধি করতে পেরেছি,’ বলেছেন মিজ ক্যাম্পবেল।
‘মানুষের মনে ১৫ই মার্চ ২০১৯এর ওই মর্মান্তিক ঘটনার ক্ষত এখনো শুকায়নি। এখনই এই ঘটনা নিয়ে ছবি করার সময় যে আসেনি এ বিষয়ে আমি একমত এবং মানুষের মনে আঘাত লাগতে পারে এমন কোন প্রকল্পের সাথে আমি জড়িত থাকতে চাই না,’ তিনি বলেন।
তবে তিনি এই ছবির কাজ থেকে সরে দাঁড়ালেও, অ্যামেরিকান এই হলিউড ছবি তৈরির পুরো প্রকল্পটি যে বাতিল হয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু নয়।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিজ আর্ডেন বলেন ছবিটি তৈরির জন্য সঠিক সময় এখনো আসেনি এবং ছবিটির ফোকাস নির্বাচন ভুল হয়েছে। ‘আমার ব্যক্তিগত অভিমত হল, ঘটনার পর বেশি তাড়াতাড়ি এই ছবি করা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের মানুষের জন্য এর ক্ষত এখনো শুকায়নি,’।
ওই হামলার সময় মিজ আর্ডেন যে সহমর্মিতা দেখিয়েছিলেন তা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। চলচ্চিত্রের প্রস্তাবিত নামটিও নেয়া হয়েছে হামলার ঘটনার পর তার দেয়া একটি ভাষণ থেকে।
তবে নিউজিল্যান্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ছবিটির মূল চরিত্র হিসাবে মিজ আর্ডেনকে বেছে নেয়ার ব্যাপক সমালোচনা করেছেন।
আয়া আল-উমারির ভাই হুসেইন ওই হামলায় প্রাণ হারান। তিনি বলছেন মিজ আর্ডেনের কাহিনি “এখানে বলার মত কোন গল্প নয়”।
ন্যাশানাল ইসলামিক ইউথ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ বাতিল করার জন্য একটি আবেদনে ইতোমধ্যেই প্রায় ৬০ হাজার মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
তারা বলছেন এই চলচ্চিত্রে ‘হতাহত ও যারা প্রাণে বেঁচে যান তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসাবে সব দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে একজন শ্বেতাঙ্গ নারীর ভূমিকার ওপর’। এই পিটিশিনে আরও বলা হয়েছে এই ছবিটি নিয়ে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে কোনরকম পরামর্শ করা হয়নি।