উন্নয়নের মূল টার্গেট হওয়া উচিত শিক্ষিত ও সুস্থ জাতি গঠন-এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সাইদুর রহমান।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত বাংলাদেশ আরবান ইয়ুথ কনফারেন্স ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইপাস বাংলাদেশের ইমপ্রুভিং এসআরএইচআর ইন ঢাকা প্রকল্পের উদ্যোগে, কানাডা সরকারের অর্থায়ন ও হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, চিকিৎসক, গবেষক, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি, প্রকল্প সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের প্রায় পাঁচ শতাধিক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।
ডা. সাইদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে রূপান্তরের পথে হাঁটছে, যার কেন্দ্রে আছে উন্নয়ন। আর উন্নয়নের কেন্দ্রে স্বাস্থ্য, আর সেই স্বাস্থ্য উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হলো তরুণ সমাজ। উন্নয়নকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে সংজ্ঞায়িত করা যায়, তবে মূল টার্গেট হওয়া উচিত শিক্ষিত ও সুস্থ জাতি গঠন।
তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা নিজেরা স্বাস্থ্যের যত্ন নেবে, পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকবে।
নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে ডা. সাইদুর রহমান বলেন, জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আমাদের একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য কাঠামো রয়েছে। তবে নগরাঞ্চলে জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে সেখানে চিত্র কিছুটা ভিন্ন।
তিনি তরুণদের নতুন স্বাস্থ্য-উদ্যোগ ও পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে কানাডিয়ান হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (ডেভেলপমেন্ট–হেলথ) অ্যাডওয়ার্ড ক্যাব্রেরা সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। তিনি বলেন, নগর স্বাস্থ্য ও প্রজনন অধিকার উন্নয়নে তরুণদের অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়। কানাডা সবসময় নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেয়। ইমপ্রুভিং এসআরএইচআর ইন ঢাকা প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় ভূমিকা ইতোমধ্যে কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। কানাডা অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জেন্ডার সমতা অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
সকালের সেশনে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে নগর প্রেক্ষাপটে প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (SRHR)-এর বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। আলোচনায় আসে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ততা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ, স্কুলভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রমসহ নানা অভিজ্ঞতা।
পরে অনুষ্ঠিত ব্রেকআউট সেশনে তরুণরা চারটি দলে বিভক্ত হয়ে নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নে সুপারিশ তৈরি করে। এসব প্রস্তাবনা থেকেই গৃহীত হয় ‘ঢাকা ডিক্লারেশন ২০২৫’, যা ভবিষ্যৎ নীতি প্রণয়নে তরুণদের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা প্রতিফলিত করে।
কনফারেন্সে ছিল ফটোভয়েস প্রদর্শনী ও অ্যাডুটেইনমেন্ট পারফরম্যান্স, যেখানে ছবি, গল্প ও মঞ্চনাটকের মাধ্যমে তরুণরা নগর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।
আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সাইদ রুবায়েত তার বক্তব্যে বলেন, প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার একটি মৌলিক অধিকার হলেও তা এখনও সামাজিকভাবে অবহেলিত। এই প্রেক্ষাপটে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সেবা-সংযোগ ও একটি টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তরুণদের উদ্যোগ ও সুপারিশ নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।