সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

খুলতে পারে সম্ভাবনার দ্বার: বাংলাদেশে যেভাবে কাজ করবে ‘গুগল পে’
সবুজবাংলা টিভি
প্রকাশ শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫

দেশে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছে গুগল পে। সিটি ব্যাংক, গুগল, মাস্টারকার্ড ও ভিসা যৌথভাবে বাংলাদেশে এ সেবা চালু করলো।

প্রাথমিকভাবে কেবলমাত্র সিটি ব্যাংকের গ্রাহকরা গুগল পে পেমেন্ট ব্যবহার করার জন্য গুগল ওয়ালেটে তাদের মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড যুক্ত করে কেনাকাটা করতে পারবেন।

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, গুগল পে ফ্রিলান্সিংসহ  আউট সোর্সিংয়ে উপার্জিত আয় দেশে আনার মতো সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।

মঙ্গলবার ( ২৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গুগল পে’র উদ্বোধন করেন।

গুগল পে ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ট্যাপ করেই দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেন করা যাবে। এজন্য লাগবে কেবল একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন, গুগল পে অ্যাপ এবং বর্তমানে কেবল সিটি ব্যাংক কার্ড। এর ফলে এখন থেকে সিটি ব্যাংকের গ্রাহককে আর ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড পকেটে বহন করতে হবে না। স্মার্ট মোবাইলফোনেই এ সেবা মিলবে। ক্রয় সম্পর্কিত সব লেনদেন এই স্মার্ট মোবাইলফোনেই করা যাবে।

আর্থিকখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও দেশে প্রথম গুগল পে সেবা নিয়ে আসা সিটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আপাতত একটি ব্যাংকের গ্রাহকরা এ সেবা পেলেও পরবর্তীতে অন্যান্য ব্যাংকের কার্ডওধারীরা এ সেবা পাবেন। আর এই লেনদেনের জন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে গুগল কোনো চার্জ নেবে না।

দেশের ফ্রিলান্সিং পেশায় নিয়োজিত তরুণদের রেমিট্যান্স দেশের আনার ক্ষেত্রে পেপ্যালের মতো প্রতিষ্ঠান দেশে আসতে বাধা তৈরি হয়েছে। দেশে গুগল পে  সেবা চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান বাংলানিউজকে বলেন, আপাতত বাণিজ্যিক ব্যাংকটি লেনদেনে ব্যবহারের জন্য অনুমতি নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেটা চাচ্ছে বাংলাদেশে পেমেন্টে ইকো সিস্টেমটা গড়ে উঠুক। এজন্য আমরা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য এ রকম অনেকই কিছুই করছি।

তিনি বলেন, গুগল দেশে এলো, খুব বেনিফিট নিয়ে এলো- তা বলবো না, গুগল পে আমাদের কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং সৃষ্টি করল। গুগল পে এখন বাংলাদেশে! এখন পেপল বলবে আমরা কেন না! অন্যদের আসার পথ সুগম করার জন্য আমরা এ রকম বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পেট্রোনাইজ করছি।  দেশে ফ্রিলান্সিং করে প্রায় ১০ লাখ তরুণ। এসব  তরুণ ফ্রিলান্সি  প্রায় বার হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খুব সামান্যই ব্যাংকিং চ্যানেল দেশে আসে। বাকি টাকা অন্য কোনোভাবে দেশে আনে বা বিদেশে থেকে যায়। ফ্রিলান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত এই অর্থ দেশে আনতে জন্য পেপলের মতো গ্লোবাল প্রতিষ্ঠানের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু নানা কারণে দেশে এমন গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশে আনা সম্ভব হয়নি।  গুগল পে বাংলাদেশে কাজ শুরু করলে পেপলের দেশে আসার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।

পেপ্যালের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দেশে আসার ক্ষেত্রে অতীতে টাকা পাচার প্রসঙ্গ আলোচনায় এসেছে। পেপ্যাল এলে দেশে রেমিট্যান্স আসার পাশাপাশি টাকার পাচার হওয়ার মতো ঘটনা বেড়ে যেতে পারে বলা হয়েছে।  কিন্তু একটি সুশৃঙ্খল আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলে গেটওয়ের মাধ্যমে পাচার নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব বলে মনে করছেন আর্থিকখাত সংশ্লিষ্টরা।

দেশে গুগল পে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকর গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশে গুগল পে-কে স্বাগত জানাই। আমার বিশ্বাস, গুগল পে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হবে।

তিনি বলেন, এটা একটা ভুল ধারণা যে এটা ব্যবহার করে বিদেশিরা কেবল দেশ থেকে অর্থ নিয়ে যাবে। আমি এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত না। যারা বিনিয়োগ করে টাকা নিয়ে যাবে, আবার টেকনোলজিও দিয়ে যাবে।  আমরা সেই পথ থেকে এগাচ্ছি।

 

বাংলাদেশে যেভাবে ব্যবহার হবে গুগল পে

গুগল পে নামে পরিচিত গুগল ওয়ালেট কন্টাক্টলেস লেনদেনে সহায়ক। প্ল্যাটফর্মটিতে ‘ট্যাপ টু পে’ ফাংশন রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা সরাসরি কার্ড ব্যবহার না করেই লেনদেন করতে পারে, যা পেমেন্টকে আরও সহজ করে।

যা লাগবে

গুগল ওয়ালেটের ‘ট্যাপ টু পে’ ফিচারটি ব্যবহার করতে মোবাইলে ‘নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বা এনএফসি’ থাকতে হবে। সাধারণত Settings > Connected devices > Connection preferences অপশন থেকে এনএফসি পাওয়া যাবে।

পেমেন্ট এমন দেশ থেকে ইস্যু করতে হবে যেখানে গুগল ওয়ালেট সমর্থন করে। কন্টাক্টলেস লেনদেনের জন্য এটি ব্যবহার করতে গুগল ওয়ালেটকে ডিভাইসে ডিফল্ট পেমেন্ট অ্যাপ হিসেবে সেট করতে হবে।

এই পাতার আরো খবর